Posts

Showing posts from June, 2025

“প্রথম দেখার সেই বিকেল” রোমান্টিক গল্প।

Image
  গল্পের নাম: “প্রথম দেখার সেই বিকেল” রোমান্টিক গল্প।  --- প্রথম দেখার স্ফূর্তি ঢাকার ব্যস্ত এক বিকেল। হাসপাতালের কাঁচের জানালার ওপারে সূর্যের আলো ধীরে ধীরে ম্লান হয়ে আসছিল। আমি, ডা. সুমাইয়া ইসলাম শ্রাবন্তী, দীর্ঘ এক অপারেশন শেষে কিছুক্ষণ নিঃশ্বাস নিচ্ছিলাম। তখনই নার্স এসে বলল, — “ম্যাডাম, নতুন এক পেশেন্ট এসেছে, বয়স বেশী না, কিন্তু ওনার হার্টে সামান্য প্রবলেম ধরা পড়েছে। ওনার ছেলে খুবই চিন্তিত।” আমি সোজা চেম্বারে গেলাম। সেখানে একজন মহিলা বসে আছেন, মুখে মায়াময় প্রশান্তি। পাশে দাঁড়ানো ছেলেটির দিকে চোখ পড়তেই মুহূর্তেই আমার ভেতরে কেমন একটা অনুভূতি হল। গায়ে হালকা নীল শার্ট, চোখে আতঙ্ক, কিন্তু চেহারায় অদ্ভুত দৃঢ়তা। — “আমি রাজা চৌধুরী,” সে বলল, “আমার মা কয়েকদিন ধরে বুকে ব্যথা অনুভব করছেন। কেউ বলেছে হার্টের সমস্যা হতে পারে। প্লিজ, আপনি ভালো করে দেখুন।” আমি মাথা ঝাঁকিয়ে বললাম, “চিন্তা করবেন না। আমি মাকে দেখে নিচ্ছি।” কিন্তু সেই প্রথম কথোপকথনের পর থেকেই তার চোখদুটো যেন আমাকে অনুসরণ করছিল। আমি বহু রোগী দেখি, বহু অভিভাবক, স্বামী, সন্তান আসে তাদের আপনজনদের নিয়ে। কিন্তু এই ছেলেট...

খালাতো দেবর, আমার স্বামী

Image
  আমার খালাতো দেবর, আমার স্বামী @topfans  পর্ব ১: হঠাৎ শূন্যতা বৃষ্টির শব্দ আমার চোখের অশ্রুর শব্দ ঢেকে রাখে। জানালার কাচে জমে থাকা জলের ফোঁটার মতোই আমার জীবনের প্রতিটি স্মৃতি ঝাপসা হয়ে আসছিল। আজ প্রায় তিন মাস হয়ে গেল, তানভীর নেই। আমার স্বামী, আমার জীবনসঙ্গী, আমার জীবনের সবচেয়ে নিরাপদ আশ্রয়, হঠাৎ এক এক্সিডেন্টে পৃথিবী ছেড়ে চলে গেল। তানভীর আর আমি ছিলাম এক অসম বয়সের দম্পতি। আমি ডাক্তার, ও তখন ইউনিভার্সিটির থিসিস নিয়ে ব্যস্ত। আমাদের ভালোবাসা ছিলো পরিণত, গভীর আর পরিপক্ব। ওর মা-বাবা তানভীরের জন্মের বহু বছর পরে ওকে পেয়েছিলেন, একমাত্র সন্তান। তাই ওকে ঘিরেই ছিল তাঁদের সব আশা, স্বপ্ন, ভালোবাসা। ওদের স্বপ্নগুলো এক মুহূর্তেই গুঁড়িয়ে গেল, আর সেই সাথে আমার জীবনটাও। আমি শ্বশুর-শাশুড়ির কাছে থেকে যেতে শুরু করলাম, ওনাদের একাকীত্বে আমি একমাত্র সান্ত্বনা। কিন্তু নিজের হৃদয়? সে তো এখনো তানভীরের ছায়া খুঁজে বেড়ায়। --- পর্ব ২: নতুন পরিচয়ের শুরু সেদিন বিকেলে, হালকা বৃষ্টি পড়ছিল। তখনই প্রথমবার বেশ কয়েক বছর পর ওকে দেখলাম — রাশেদ, আমার খালাতো দেবর। তানভীরের ফুফাতো ভাই। সে তখন হাইস্কুলের ক্লাস ট...

ভাইয়ার মৃত্যুর পর ভাবির সাথে বিয়ে।

Image
  গল্পের নাম: "ভাঙনের পরে বসন্ত" ভাইয়ার বিয়েটা খুব ধুমধাম করেই হয়েছিল। সবার মুখে তখন শুধু একটাই কথা— "ভাইয়ার বউটা যেন একেবারে পরীর মতো!" ভাবি, মানে নীলা ভাবি, ছিলেন সত্যিই অসাধারণ। রূপ, গুণ, আচরণ—সব দিক থেকেই যেন পারফেক্ট। কিন্তু বিয়ের মাত্র কয়েক মাসের মধ্যেই ভাইয়া একটা সড়ক দুর্ঘটনায় মারা গেল। ঘরের মধ্যে যেন শোকের কালো মেঘ নেমে এলো। ভাবি নিঃশব্দে যেন পাথর হয়ে গেলেন। কারো সঙ্গে কথা বলতেন না, চোখের জল লুকিয়ে রাখতেন, কিন্তু তবু কখনো রাতের অন্ধকারে আমি শুনতাম তাঁর কান্নার শব্দ। আমি তখন বিশ্ববিদ্যালয়ের শেষ বর্ষের ছাত্র। ভাবিকে দেখতাম নির্জীব হয়ে বসে থাকেন, জানালার পাশে। কতবার ভাবতাম— "এই মেয়েটির জীবনে এত অল্প সময়ে এত বড় ঝড় কেন এলো?" মা একদিন আমায় ডেকে বললেন, “শুন মা, আমরা ভাবছি… নীলার তো পুরো জীবন পড়ে আছে। এইভাবে একা থাকলে মরে যাবে। আর তুইও তো আমাদের চেনা ছেলে, তুই যদি রাজি থাকিস…” আমি চুপ করে ছিলাম। মাথা নিচু করেছিলাম। কোনো উত্তর ছিল না। পরদিন বাবা, মা, চাচা-চাচি, সবাই মিলে বসে সিদ্ধান্ত নিল— "নীলাকে নতুন জীবন দিতে হবে। আর সে জীবনের সঙ্গী...

ফেক আইডির প্রেম—চাচাতো ভাই যখন প্রেমিক

Image
  ফেক আইডির প্রেম—চাচাতো ভাই যখন প্রেমিক তিন বছর আগে... তৃষা তখন সবে কলেজে উঠেছে। বন্ধুদের সাথে ফেসবুক ঘাঁটাঘাঁটি করে সময় কাটে তার। হঠাৎ একদিন মজা করে বানিয়ে ফেলে একটা ফেক আইডি। নাম দেয় "মায়া হাসান", প্রোফাইল পিকচারে দেয় এক কোরিয়ান অভিনেত্রীর ছবি। উদ্দেশ্য ছিল একটা—দেখবে ছেলেরা কিভাবে প্রতিক্রিয়া দেয়। কিন্তু যে গল্পটা শুরু হয়েছিল কৌতূহল থেকে, তা ধীরে ধীরে গড়ায় এমন এক সম্পর্কের দিকে, যা তৃষা নিজেও কল্পনা করেনি। "মায়া হাসান" আইডিতে একদিন ইনবক্সে মেসেজ আসে— "হাই, তুমি খুব সুন্দর। তোমার কবিতাগুলো খুব পছন্দ হয়েছে।" তৃষা মুচকি হেসে রিপ্লাই দেয়, "ধন্যবাদ 😊 আপনি কে?" উত্তরে ছেলে লেখে, "তোমার নামটা যেমন মায়াবী, তেমন কথাগুলাও দারুণ। আমি তানভীর।" তৃষা চমকে ওঠে। তানভীর? তার সেই চাচাতো ভাই? ছোটবেলা থেকে একসাথে বড় হওয়া, যার সাথে এখনো ঈদ বা ছুটিতে দেখা হয়। কিন্তু এই নামটা তো কতজনের হতে পারে! নিশ্চিত না হয়ে কিছু বলে না সে। কথা চালিয়ে যায়। তানভীর ছিল একটু লাজুক স্বভাবের, কিন্তু লেখালেখির প্রতি প্রবল আগ্রহ। কথার মাঝে কবিতার লাইন ঢুকিয়ে দিত, আর তৃষা সেই ...

সিনিয়র আপু বাবার বন্ধুর মেয়ে যখন আদরের বউ

Image
  সিনিয়র আপু বাবার বন্ধুর মেয়ে যখন আদরের বউ  প্রথম দেখা আমি তখন কলেজের প্রথম বর্ষে ভর্তি হয়েছি। নতুন শহর, নতুন ক্যাম্পাস, নতুন মুখ। নিজের ভেতর একটা মিশ্র অনুভূতি—আতঙ্ক, কৌতূহল আর রোমাঞ্চ। আমি গ্রামের ছেলে, ঢাকায় পড়াশোনার জন্য এসেছি, বাবা’র পুরনো বন্ধুর বাসায় উঠেছি—মোস্তফা আঙ্কেল। উনি সরকারি চাকরিতে আছেন, পরিবারসহ উত্তরার একটি ফ্ল্যাটে থাকেন। এই বাড়ির সবচেয়ে বড় চমক ছিল—রেশমা আপু। আমার থেকে প্রায় পাঁচ বছরের বড়। বাবার বন্ধুর একমাত্র মেয়ে। বিশ্ববিদ্যালয়ে মাস্টার্স শেষ করছে তখন। ভদ্র, রুচিশীল, সুন্দরী আর সেই সঙ্গে একটু যেন কঠোর মনের। প্রথম দিনেই বলেছিল, “আমার সামনে ভাইসাজি সাজবেন না, ভাই হিসেবে যতটুকু আদবকায়দা লাগে সেটুকু রাখবেন, বাকি সময় স্টাডি করবেন। এ বাসায় নাটক করার সুযোগ নেই।” আমি তো ভয়ে চুপ মেরে গেলাম। কিন্তু রেশমা আপুকে দেখা মাত্রই এক অদ্ভুত অনুভূতি হয়। না, প্রেম নয়, কিন্তু একটা সম্মানমিশ্রিত আকর্ষণ। উনি ছিলেন আমার সিনিয়র আপু, কিন্তু সময়ের সাথে সাথে উনাকে ঘিরে এক অদ্ভুত টান তৈরি হতে থাকে। রেশমা আপু আমাকে সময়মতো পড়তে বলতেন, সময়মতো খেতে দিতেন, এমনকি পরীক্ষার আগের রাতে নিজে ...